পৃথিবী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষার মোক্ষম সুযোগ
আগামী ১২ অক্টোবর, পৃথিবীর কাছ ঘেষে অতিক্রম করবে ৩০ মিটার আকৃতির একটি গ্রহাণু। ২০১২ টিসি৪ নামক এই গ্রহাণুটি পৃথিবী থেকে মাত্র ৪,২০০ মাইল দূরত্ব দিয়ে প্রথমবারের মতো যাবে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা তাদের ‘গ্রহ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’ পরীক্ষা করার জন্য এই মোক্ষম সুযোগটি কাজে লাগাতে আগ্রহী, যাতে এ ধরনের গ্রহাণুর হুমকি থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করা যায়।
২০১২ টিসি৪ গ্রহাণুর আকৃতি ১০ থেকে ৩০ মিটারের মধ্যে অনুমান করা হয়েছে। টিসি৪ পর্যবেক্ষণ প্রকল্পে কর্মরত নাসার বিজ্ঞানী মাইকেল কেলি বলেন, ‘কোনো গ্রহাণু যখন পৃথিবীর কাছ ঘেষে অতিক্রম করে তখন পৃথিবীর নিরাপত্তার জন্য বিজ্ঞানীরা সবসময়ই উপলব্ধি করেছে সেই গ্রহাণুটির সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের প্রস্তুতির এবং যতটা সম্ভব যেন চিহ্নিত করতে পারে।’
কেলি বলেন, ‘এবার আমরা আমাদের প্রচেষ্টায় আরো বেশি স্তর যোগ করছি। এই গ্রহাণুটির অতিক্রম পর্যবেক্ষণে বিশ্বব্যাপী গ্রহাণু শণাক্তকরণ এবং ট্র্যাকিং নেটওয়ার্ক পরীক্ষা করা হবে, যার মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করে সম্ভাব্য গ্রহাণু হুমকির সন্ধানে আমাদের সামর্থ্য নির্ণয় করা যাবে।’
২০১২ টিসি৪ গ্রহাণু ট্র্যাক, রিকভার এবং ক্যারেক্টার বুঝতে নাসা তাদের আন্তর্জাতিক অবজারভেটরির নেটওয়ার্কগুলো ব্যবহারের প্রত্যাশা করেছে।
গবেষণা প্রকল্পটির প্রধান অধ্যাপক বিষ্ণু রেড্ডি বলেন, ‘এটি একটি দলীয় প্রচেষ্টা যাতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে এক ডজনেরও বেশি অবজারভেটরি এবং বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ল্যাব। ফলে পৃথিবীর নিকট-বস্তু পর্যবেক্ষণে আমরা আমাদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার শক্তি এবং সীমাবদ্ধতাগুলো শিখতে পারবো।’
‘এই প্রচেষ্টা পুরো সিস্টেমটির জন্য অনুশীলন হবে, যাতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে প্রাথমিক এবং ফলো-আপ পর্যবেক্ষণ, সঠিক কক্ষপথ নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ।’
পৃথিবীর কাছের বস্তু নিয়ে নাসার গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে, ২০১২ টিসি৪ গ্রহাণু পৃথিবীর ৪২০০ মাইলেরও বেশি দূরত্ব দিয়ে অতিক্রম করবে, সম্ভবত এটি ১৭০,০০০ মাইল দূরত্ব দিয়ে যাবে।
২০১২ সালে গ্রহাণুটি পৃথিবীকে দ্রুতগতিতে অতিক্রম কালে প্রথম আবিষ্কৃত হয় কিন্তু সেসময় এটি অনেক বেশি দূর দিয়ে পৃথিবীকে অতিক্রম করে এবং গত পাঁচ বছর অস্পষ্ট ছিল।
কিন্তু আগামী অক্টোবর মাসে যেহেতু এটি পৃথিবীর কাছ দিয়ে যাবে তাই তখন বড় টেলিস্কোপগুলো এটি শণাক্ত করতে এবং গ্রহাণুটির সুনির্দিষ্ট পথ নির্ধারণ করতে ব্যবহৃত হবে। নতুন পর্যবেক্ষণে প্রত্যাশা করা হয়েছে, গ্রহাণুটির কক্ষপথ সম্পর্কে আগের ধারণা সংশোধন হবে এবং গ্রহাণুটি পৃথিবীর কত দূর দিয়ে অতিক্রম করবে সেই অনিশ্চয়তা কমবে।
গবেষণা প্রকল্পটির একজন ম্যানেজার পল কডাস বলেন, ‘এই ধরনের অনুশীলনের জন্য এটি নিখুঁত লক্ষ্য। এর মাধ্যমে ২০১২ টিসি৪ গ্রহাণুর কক্ষপথ সম্পর্কে নিশ্চিত ভাবে জানা যাবে যে, এটি পৃথিবীকে প্রভাবিত করবে কিনা, যেহেতু এটির সঠিক পথ আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি। ফলোআপ পর্যবেক্ষণে একসঙ্গে কাজ করায় গ্রহাণুর কক্ষপথ নিয়ে স্থায়ী ধারণা পাওয়াটা সহজ হবে।’
পড়ুন : পৃথিবী রক্ষায় নতুন অফিস খুলেছে নাসা

